সেলস অফিসারের কাজ কি -বেতন কত- কি যোগ্যতা প্রয়োজন

সেলস অফিসারের কাজ কি : প্রতিষ্টানের যে কর্মী বিভিন্ন পণ্য-সামগ্রী ও সেবা কোম্পানীর নিয়ম – রীতি অনুসরণ করে বাজারে বিক্রয় এবং বিক্রয়ের সাথে জড়িত সকল কাজ করেন তাকেই সেলস অফিসার বলে ।

বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে দিন দিন জ্যামিতিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু তাদেরকে চাকুরি বা জব দেওয়ার মতো যথেষ্ট পরিমাণ কর্মসংস্থান নেই । উল্টো প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী চাকুরির জন্য হাহাকার করতে দেখা যায় ।  কিন্তু চাকুরি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় আর জবটি পাওয়া হয় নাহ । 

সেলস অফিসারের কাজটি করে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারবেন । তাহলে চলুন একজন সেলস অফিসারের কাজ কি তা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক ।

 

Table of Contents

একজন সেলস অফিসারের কাজ কি ? 

 

উদাহারণসরুপ : ধরুন, আপনি প্রাণ কোম্পানিতে একজন সেলস অফিসার হিসাবে জব নিয়েছেন । এখন আপনার মূল কাজ হবে প্রাণ কোম্পানির পণ্যগুলো বিভিন্ন দোকানে দোকানে গিয়ে সেলস বা বিক্রি করে আসা অথবা অর্ডার নেওয়া ।

আশা করি সেলস অফিসারের কাজ কি তা আপনি এখন বুঝতে পেরেছেন । 

 

সেলস অফিসারের কাজে বেতন কত ?

একজন সেলস অফিসার বাংলাদেশের বাজারে গড়ে মূল বেতন পেয়ে থাকেন প্রায় ৯,০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকার মতো এবং মূল বেতনের সাথে (  টিএ = Travel allowance ) যাতায়াত ভাড়া হয়তো ৫,০০০ টাকা এবং ( ডিএ = Daily allowance ) দৈনিক ভাতা ৫,০০০ টাকা করে পেতে পারেন প্রতিমাসে । এছাড়াও কোম্পানীর কাঙ্খিত টার্গেট ফিলাপ করতে পারলে ২,০০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকাও বাড়তি পেতে পারেন ।

সর্বমোট সেলস অফিসারের কাজ করে আপনি ২২,০০০ – ২৭,০০০ টাকার মতো বেতন পেতে পারেন । তবে তার সম্পূর্ণটা নির্ভর করছে কোম্পানীর ওপর । একেক কোম্পানী সেলস অফিসারদের বেতন এক একরকম করে দেয় ।

তবে ‍সেলস অফিসার জবে পরিশ্রমের তুলনায় বেতন কম তা বলা যায় । কারণ এই কাজে মূল বেতন কম ধরা হয় । যদিও কিছু ইনসেনটিভ ও বোনাস পাওয়ার সুযোগ আছে তবে সেখানে তার সাথে যাতায়াত ভাড়াও এবং দৈনিক খরচও যুক্ত আছে তা মাথায় রাখতে হবে ।

 

সেলস অফিসার চাকরির জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন :  

 

অভিজ্ঞতা :  

অন্যান্য চাকরির মত সেলস অফিসার চাকরিতেও অভিজ্ঞ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় ।  কারণ একজন অভিজ্ঞ সেলস অফিসার সহজেই কোম্পানির পণ্য ও সেবাগুলো গ্রাহকের নিকট বিক্রি ও সুযোগ সুবিধাগুলো তুলে ধরতে পারবে ।  যার ফলে কোম্পানি অধিক অর্থ উপার্জন করতে পারবে । 

তবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও সেলস অফিসার পদে চাকরি পাওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে ।  কয়েকদিন পরিশ্রম করলেই সহজে প্রোডাক্ট সেল করার পদ্ধতি শিখে নেওয়া যায় ।

 

প্রোডাক্ট সম্পর্কে গ্রাহককে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়ার দক্ষতা :  

মানুষের নিকট কোন কিছু বিক্রি করা খুব সহজ একটি কাজ নয় ।  তবে এটি আবার কোনো রকেট সাইন্সও নয় । 

প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য দোকানদারদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা,  কোম্পানির পণ্য সম্পর্কে ভালো-খারাপ, সুযোগ-সুবিধার দিকগুলো তুলে ধরা । দোকানদার প্রোডাক্টটি থেকে কি পরিমান লাভ করতে পারবে তার ধারনা দেওয়া ইত্যাদি একজন সেলস অফিসারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ।

একজন সেলস অফিসারকে বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন মানুষের সাথে চলাফেরা ও লেনদেন করতে হবে ।  তাই যাতে করে সেলস অফিসারের ব্যবহারে কারো মন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে ।  অন্যথায় দোকানদাররা সেলস অফিসারের নিকট থেকে কোন ধরনের প্রোডাক্ট কিনবে না ।

আমরা প্রায় সময়ই বিভিন্ন দোকানদারদের দেখতে পাই সেলস অফিসারদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে কিন্তু সেলস অফিসাররা বিনয়ের সাথে সে পরিস্থিতিটি সামাল দিয়ে থাকে ।

তাই সবসময় মাথা ঠান্ডা রেখে দোকানদারদের সাথে ব্যবহার করতে হবে তাহলে সহজে তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে ।

 

বয়স : 

১৮ বছর থেকে ৩৫ বছরের বয়সের কর্মীদেরই বেশিরভাগ সময় সেলস অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে । তবে নিদিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই এই চাকরির জন্য ।

 

শিক্ষাগত যোগ্যতা : 

সেলস অফিসার পদে চাকরির জন্য সর্বনিম্ন এসএসসি পাস করলেও চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকে । তবে বিভিন্ন কোম্পানি প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চাকরির  বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্টকরে  এই বিষয়ে উল্লেখ করে থাকে ।

 

ভাষা : 

সাবলীলভাবে বাংলা ভাষা বলার পাশাপাশি ইংরেজিতে মোটামুটি কমিউনিকেশন করতে পারলেই সেলস অফিসার পদে চাকরি পাওয়া যায় । 

 

অন্যান্য : 

কম্পিউটার অপারেটিং স্কিল , মোটরসাইকেল ড্রাইভিং , প্রবলেম সলভিং এই ধরনের দক্ষতাগুলো থাকলে আপনি নিঃসন্দেহে সেলস অফিসার মার্কেটিং চাকরিটিতে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন ।

 

আরো পড়ুন : একজন টেরিটরি সেলস অফিসারের কাজ কি ?

 

নিজেকে একজন সফল সেলস অফিসার হিসাবে গড়ে তুলতে হলে যা যা করতে হবে : 

 

১. প্রি কল প্ল্যানিং 

প্রতিরাতে আগামী দিনের জন্য প্ল্যানিং তৈরী করতে হবে । যেমন : কোথায় যেতে হবে , কেমন সেলস জেনারেট করতে হবে , কি অফার দেওয়া যেতে পারে ইত্যাদি ।

 

২. স্টক চেক করা 

প্রতিদিন সকালে সেলস অর্ডার কাটতে যাওয়ার পূর্বে স্টক চেক করে দেখতে হবে কি কি পণ্য গোডাউনে মজুদ বা র্পযাপ্ত রয়েছে । তাহলে সঠিকভাবে অর্ডার নেওয়া সম্ভব হবে । অন্যথায় দেখা যাবে অর্ডার ঠিকই নেওয়া হবে কিন্তু তা আর সরবারহ করা সম্ভব হবে নাহ ।

 

৩. পূর্বের অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবারহ হয়েছে কিনা চেক করা 

গতকালের অর্ডারগুলোকে সঠিকভাবে দোকানদের নিকট সরবারহ করা হয়েছে কিনা তা চেক করে দেখতে হবে । অন্যথায় দোকানদাররা তাদের পণ্য সঠিক সময় না পেয়ে যেমন ক্ষুদ্ধ হবে তেমনি করে গ্রাহকও হারাতে হবে । যার ফলে কোম্পানীর বিক্রয়ের উপর অনেক খারাপ প্রভাব পড়বে ।

 

৪. মেমো বই ও ক্যাটালগ গুছিয়ে নেওয়া

প্রতিদিন কাজে যাওয়ার পূর্বে পণ্যের মেমো বই ও ক্যাটালগগুলো গুছিয়ে সাথে নিতে হবে । অন্যাথায় দোকানদাররা স্যাম্পল দেখতে চাইলে তখন তা দেখানো সম্ভব হবে নাহ এবং এরফলে পণ্য বিক্রয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে ।

 

৫. সকাল সকাল মার্কেটের উদ্দেশ্যে বের হওয়া

যতদ্রুত চেষ্টা করা যায় সকাল সকাল মার্কেটের উদ্দেশ্যে অর্ডার নেওয়ার জন্য বের হয়ে যেতে হবে তাহলে সম্পূর্ণ এরিয়া থেকে অর্ডার নেওয়া সম্ভব হবে ।

 

৬. অর্ডার নেওয়া

নিজের বিক্রয় দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দোকানদের নিকটে কোম্পানীর প্রোডাক্টের গুন-গান গাইতে হবে । এবং ভালো – খারাপ , সুযোগ – সুবিধা সব তুলে ধরে লাভের বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হবে । এবং সাথে সাথে অর্ডার নিতে হবে ।

 

আবার যে সমস্ত দোকানগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেসব দোকানে প্রথমে যাওয়ার চেষ্টা করুন ।  এবং যেসব দোকান থেকে অধিক অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে সময় নিয়ে ভালো করে অর্ডার কাটুন । 

 

৭. দৈনিক বিক্রয় বিবরণী তৈরী করা

দিনশেষে কি পরিমাণ অর্ডার নেওয়া হলো তার বিবরণী তৈরী করতে হবে । তাহলে মাস শেষে হিসাব করতে সুবিধা হবে । এবং একটি দৈনিক বিক্রয় বিবরণীর উপর নির্ভর করে পরেরদিন পণ্য সরবরাহের কাজ  সম্পন্ন করা হয় । 

 

৮. ট্রেড অফারে রেজিষ্টার পূর্ণ করা 

ট্রেড অফার রেজিস্টার পূর্ণ করা একজন সেলস অফিসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ।  ট্রেড অফার রেজিস্টারে প্রতিদিন কি কি অফার দেওয়া হল তা লিপিবদ্ধ করা হয় । দোকানের নাম, মেমো নাম্বার, অফারের নাম , পরিমাণ ও কমিশন ইত্যাদি ট্রেড অফার রেজিস্টার পত্রে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হয় ।

 

৯. চাহিদা পত্র 

প্রতিদিন বাজারে অর্ডার কাটার সময় নতুন নতুন পণ্যের চাহিদা অনুমান করতে পারবেন ।  এছাড়াও দোকানদারদের কি পণ্যের চাহিদা বেশি রয়েছে তা একটি চাহিদাপত্র লিপিবদ্ধ করে রাখুন । 

 

যার ফলে পরবর্তীতে পণ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে ।

 

১০. টার্গেট এর বিপরীতে অর্জন

প্রতিদিন টার্গেট এর বিপরীতে কি পরিমান সেল জেনারেট করা গিয়েছে তা লিপিবদ্ধ করে রাখুন ।  এবং টার্গেট এর সাথে তুলনা করে যাচাই করুন । এতে করে যদি দেখতে পান টার্গেট অনুযায়ী সেলস করা সম্ভব হচ্ছে না তাহলে আরো পরিশ্রম করার চেষ্টা করতে হবে ।

 

পরিশেষে – Finally

বন্ধুরা আজকে  “ সেলস অফিসারের কাজ কি “ আর্টিকেলটিতে আপনাদের সাথে সেলস অফিসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ।  

একজন সেলস অফিসারের বেতন কত ,  সেলস অফিসার চাকরির জন্য কি যোগ্যতা প্রয়োজন এছাড়াও নিজেকে একজন সফল সেলস অফিসার হিসেবে গড়ে তুলতে কি কি পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ।

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে উপকৃত মনে হলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ।  এছাড়াও নিয়মিত এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটের উপর । ফলো করুন আমাদের ফেইসবুক পেইজ

 

আরো পড়ুন : 

➡️ ছাত্রদের জন্য ১২টি পার্ট টাইম চাকরি ।

➡️ ১৩টি বেস্ট অনলাইন জব যা মেয়েরাও করতে পারবে ।

➡️ সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ এর কাজ কি ? 

➡️ ফায়ার ফাইটারের কাজ কি ? 

By MD Imran hossan

২০১৯ সাল থেকে যুক্ত আছি এই টেকনোলজির দুনিয়ার সাথে । যদিও আমার পড়াশোনা ব্যবসা ও বাণিজ্য নিয়ে । ওয়েবসাইট ডেভেলপ করে দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে লিখালিখি ও ব্লগিং সেক্টর এর সাথে যুক্ত আছি । নিজের জ্ঞান কে অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছি Goafta.com ওয়েবসাইট । স্বপ্ন দেখছি একটি বিশ্বস্ত ব্যবসায়িক ব্লগ গড়ে তোলার । এবং নিজে যতটুকু জানি তা সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার , তাতে যদি কারো শস্য পরিমাণও উপকার হয় তাতেই আমার প্রশান্তি |

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *